বুধবার | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি | সকাল ৯:১২
Home / অর্থনীতি ও বানিজ্য / পোশাকশিল্পে সাতটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম মজুরি বাংলাদেশে: অক্সফাম

পোশাকশিল্পে সাতটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম মজুরি বাংলাদেশে: অক্সফাম

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে যারা কাজ করেন তাদের মজুরি সবচেয়ে কম। তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী সাতটি দেশের মধ্যে মজুরির দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এখানকার শ্রমিকরা যে অর্থ পান তা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন। পোশাকখাতের শ্রমিকদের মধ্যে নারীরা সবচেয়ে দুরবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা অক্সফামের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। রবিবার রাতে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বিশ্বের সাতটি প্রধান পোশাক তৈরিকারক দেশের ন্যূনতম ও বসবাসের জন্য শোভন মজুরির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও আছে ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকেরা সবচেয়ে কম মজুরি পান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বসবাসের জন্য শোভন মজুরি প্রয়োজন ২৫২ মার্কিন ডলারের সমান অর্থ। এর বিপরীতে বাংলাদেশের একজন শ্রমিক পান ৫০ ডলার। ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫০ ডলার। তবে ভারতে শোভন জীবনযাপনের জন্য ২০০ ডলার এবং শ্রীলঙ্কায় ২৫০ ডলারের বেশি অর্থ দরকার হয়।

অক্সফামের প্রতিবেদনে নারী শ্রমিকদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কাজের চাপে শৌচাগারে যেতে না পারায় অনেক অল্পবয়সী নারী শ্রমিক মূত্রনালির সংক্রমণে ভোগেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের তৈরি পোশাকশিল্পের বড় কারখানার পাঁচ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চার দিনে যে আয় করেন, তা বাংলাদেশের একজন নারী পোশাকশ্রমিকের সারা জীবনের আয়ের সমান।

অক্সফাম এ প্রতিবেদন তৈরি করতে বিশ্বের ১০টি দেশের এক লাখ ২৩০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অংশে দেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনমানের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে অক্সফাম বিশ্বজুড়ে আয়বৈষম্যের চিত্রও তুলে ধরেছে। যেমন গত বছর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কোটিপতি বেড়েছে। বিশ্বে প্রতি দুই দিনে একজন করে মানুষ কোটিপতি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের ৯ জনই পুরুষ। যারা কোটিপতি আছেন, তাঁদেরও সম্পদ বেড়েছে ব্যাপক হারে। গত বছর বিশ্বে যে পরিমাণ সম্পদ উৎপাদিত হয়েছে, তার মালিক বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ ধনী মানুষ। দরিদ্র ৫০ শতাংশ মানুষ এ সম্পদের কোনো কিছুই পায়নি।

অক্সফাম বলেছে, বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে নাগরিক অধিকার ব্যাপকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। এসব দেশে দিন দিন মানুষের কথা বলার অধিকার কমে যাচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

১০ দিন কাজ করলে ১ মাসের বেতন

স্টাফ রিপোর্টারঃ রবিবার (১২) এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোঃ মকবুল হোসেন স্বাক্ষরিত ...