সোমবার | ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি | রাত ২:৪৭
Home / জাতীয় / রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা ইউপিতে খেলার মাঠে হাঁটু পানি

রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা ইউপিতে খেলার মাঠে হাঁটু পানি

সাইফুর রহমান শামীম, কুড়িগ্রাম থেকে : রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা ইউপিতে খেলার মাঠে হাঁটু পানি। থৈ থৈ করছে হাঁটু জল, দেখলে বিশ্বাসই হবে না যে এটাই কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কাচারী মাঠ। সাকিব, তামিম, মুশফিক, রুবেল, সৌম্যরা যখন দেশ মাতিয়ে রাখছেন তখন বর্ষা মৌসুমে পানির নিচে ডুবে থাকে এ মাঠ।

স্যাঁতস্যাঁতে মাঠে নিয়মিত খেলা কিংবা অনুশীলন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। কিন্তু এ মাঠেই ক্রিকেট ছাড়াও ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। তাই মাঠের এ অবস্থার জন্য খেলোয়াড়দের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে। নিয়মিত খেলতে না পারায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই সমস্ত পানি নেমে আসে মাঠে। বন্ধ হয়ে যায় সব খেলা। এই ইউনিয়নের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী কাচারী মাঠটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। অনাদর, অবহেলা আর চোখের জলে দীর্ঘদিন ভাসছে মাঠটি। ইউনিয়নের মধ্যে এত বড় জনগুরুত্বপূর্ণ মাঠ বিরল।

এ মাঠে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন মেলা, বড় ধরনের সভা, সমাবেশ ও নিয়মিত সব ধরনের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিশাল এ মাঠটি যেন এখন অভিভাবক শূন্য। এই মাঠে পানি নিষ্কাশনের কোনো ড্রেন না থাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই মাঠটিতে জমে পানি। আর বর্ষা মৌসুমে থাকে হাঁটু পানি, যা মাছ ও ধান চাষের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পুরো মাঠটি পানিতে ডুবে গেছে। যার ফলে ক্রীড়ামোদিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঠ সংলগ্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কলেজ থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর সমাগম হয় এই মাঠে। হাঁটু পানিতে ডুবে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না।

স্থানীয়রা জানান, এই ইউনিয়নে খেলার মাঠের স্বল্পতা রয়েছে। যে ঐতিহ্যবাহী ডাক বাংলো মাঠটি রয়েছে সেখানে জলাবদ্ধতার সমস্যা। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকলেও মাঠের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙছে না। দাঁতভাঙ্গাবাসীর দাবি মাঠটি রক্ষার জন্য পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। যাতে বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে না যায় এবং শিক্ষার্থীরা সারা বছর খেলাধুলা করতে পারে। এছাড়া আগামী প্রজন্মের খেলোয়াড় সৃষ্টির জন্য আরো একটি ভাল মাঠের প্রয়োজন ইউপি বাসীর।

উক্ত মাঠের নিয়মিত খেলোয়াড় সোহেল রানা জানান, মাঠে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও কাবাডি খেলা হতো। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় তারা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারছে না। এক পাশে অল্প একটু শুকনো জায়গা আছে, সেখানে খেলতে হচ্ছে তাদের। একই তথ্য জানায় মারজান, নাফিজ ও তুষার। পানি নিষ্কাশন ও মাঠ উন্নয়নে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যেসব অঞ্চলে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা

দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। ...