বুধবার | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি | রাত ৯:০৪
Home / সারাদেশ / চট্রগ্রাম বিভাগ / বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় প্রবল দুর্ভোগে বান্দরবানবাসি

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় প্রবল দুর্ভোগে বান্দরবানবাসি

বীরজয় ত্রীপুরা, বান্দরবান: তেমন কোন পরিবর্তন নেই বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি । জেলা শহর থেকে ধীর গতিতে পানি নামলেও আকাশে ভারি মেঘ ও থেমে থেমে বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার বন্যার পানি কিছুটা কমলেও শনিবার সকাল থেকে প্লাবিত এলাকাগুলোতে বন্যার পানি বেড়েই চলেছে। প্লাবিত হচ্ছে আরও নতুন নতুন এলাকার ঘরবাড়ি। অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় বন্যায় পানি বন্দি হয়েছে পড়েছে অর্ধলক্ষাধিকেরও বেশি বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৩১টি। কিন্তু প্লাবিত এলাকাগুলোর তুলনায় আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা অনেক কম বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তরা। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানিও হুহু করে বাড়ছে।

জানাগেছে, চলতি মাসের ৬ জুলাই থেকে বান্দরবানে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। সদর, রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, লামা, আলীকদম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় তেত্রিশটি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভায় বন্যা কবলিত মানুষের সংখ্যা যেন বাড়ছে প্রতিযোগিতা দিয়ে।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শনিবার মেম্বারপাড়া, হাজেঘোনা, বালাঘাটা, কালাঘাটা’সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে নতুন করে অনেক ঘরবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। সাতটি উপজেলায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এখন পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যা-পাহাড় ধসের প্রাণহানি ঠেকাতে দুর্যোগ মোকাবেলায় বান্দরবানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাইক্লোন সেন্টারে খোলা হয়েছে ১৩১টি আশ্রয় কেন্দ্র। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছে শতশত পরিবার। এছাড়াও আত্মীয় স্বজন এবং পাশ্ববর্তী ভবনে পাড়াপ্রতিবেশির বাসায় অবস্থান নেয়া লোকদের ভোগান্তি যেন আরও কয়েকগুন বেশি। বন্যা কবলিত পানি বন্দি এলাকাগুলোতে এখনো পর্যন্ত প্রশাসন-পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌছায়নি।

এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরের হাফেজঘোনা এলাকায় সড়কে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। পাহাড় ধসের ঝুকিঁতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো: দাউদুল ইসলাম বলেন, ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সবধরণের প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে গুদামে। আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যাও ৫টি বাড়িয়ে ১৩১টি করা হয়েছে।

 

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য এন্ড পরিবেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সোসাইটির র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য এন্ড পরিবেশ মানবাধিকার ...