শনিবার | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৮ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি | দুপুর ১২:৪৫
Home / আন্তর্জাতিক / আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট রোহিঙ্গারা

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট রোহিঙ্গারা

নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মামলার অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে খুশি রোহিঙ্গারা। দাবিকৃত ছয়টির মধ্যে চারটি তাদের পক্ষে আসায় প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে তারা। এ রায়ে প্রতিক্রিয়া দেশ-বিদেশের রোহিঙ্গা নেতারা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন চারটি আদেশ দিয়েছেন আইসিজে। সেগুলো হচ্ছে শাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে অং সান সু চি-র যুক্তি খারিজ করা হয়েছে, মিয়ানমারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা রোধে সব ব্যবস্থা নিতে হবে, মিয়ানমারকে অবশ্যই ধ্বংস রোধ করতে হবে এবং সম্পর্কিত প্রমাণ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, মিয়ানমারকে আজ থেকে ৪ মাসের মধ্যে এবং মামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ৬ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

একই দিন বিকেলে টেকনাফের কয়েকটি ক্যাম্পে ঘুরে দেখা যায় ছোট ছোট দোকানে টিভি ও রেডিওতে খবর দেখতে ব্যস্ত ছিল রোহিঙ্গারা।

এসময় টেকনাফের জাদীমোড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. ইসমাইল বলেন, আইসিজে দেওয়া রায় নিয়ে আমরা অনেক খুশি, এইটি মাত্র শুরু। মনে হচ্ছে এইটি বিচারের প্রথম স্বাদ। তাছাড়া এই রায় দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কিন্তু প্রত্যাবাসনের বিষয়টি যদি সামনে আনা যেতো তাহলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু করা যেতো।

রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) সাধারন সম্পাদক মাস্টার সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ছয়টির দাবির মধ্যে চারটি আমাদের পক্ষে এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে অং সান সু চি-র যুক্তি খারিজ করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে সেখানে গণহত্যা হয়েছে। এজন্য রায়ের দিন সু চি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এই রায় থেকে সুচির লজ্জা পাওয়া উচিত। তবে প্রত্যাবাসনের বিষয় নিয়ে যদি আলোচনা করলে তাহলে আরো ভাল হতো।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শূন্য রেখা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন, আইসিজে রায়ে খুশি, এটি রোহিঙ্গা জনগোষ্টীর জন্য প্রথম জয়। কেননা যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের স্বীকার হলেও কোন বিচায় পায়নি। ফলে এই রায়ে যেন মনে হচ্ছে প্রথম বিচারের স্বাদ পেয়েছি।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, আইসিজের ঘোষিত রায়ের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পে নজরদারি  রাখা হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ব্লিনকেনকে উইঘুদের বন্দি শিবির ও নির্যাতন বন্ধের আহ্বান

সম্প্রতি জিনজিয়াংয়ে উইঘুদের প্রতি চীনের অমানবিক আচরণ ও গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ...