রবিবার | ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি | সকাল ৮:০৩
Home / জাতীয় / আজ পিলখানা ট্র্যাজেডির ১১ বছর

আজ পিলখানা ট্র্যাজেডির ১১ বছর

পর্দার আড়ালে ২৪.কম প্রতিনিধিঃ পিলখানা ট্র্যাজেডির ১১ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআর সদস্যদের বিদ্রোহে নিহত হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। দেশের ইতিহাসের এ এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ঢাকার পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সরকারিভাবে দিনটি এখন ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

২০০৯ সালের ওইদিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে বিডিআরের বার্ষিক দরবার চলাকালে দরবার হলে ঢুকে পড়েন একদল বিদ্রোহী সৈনিক। তারা বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। এরপরই ঘটে সেই নৃশংস ঘটনা। তারা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের হত্যার পর তাদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলে।

পুরো পিলখানাজুড়ে সৃষ্টি হয় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি। পিলখানার চারটি প্রবেশ গেটই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা। আশেপাশের এলাকায়ও গুলি ছুঁড়তে থাকেন তারা।

টানা ৩৬ ঘণ্টা চলার পর এ বিদ্রোহের অবসান হয়। তবে ততক্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন দক্ষ ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা, এক সৈনিক, দুইজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ জন বিডিআর সদস্য ও পাঁচ জন বেসামরিক ব্যক্তি।

ঘটনার পর পিলখানায় খোঁজ পাওয়া যায় গণকবরের, যেখানে সেনা কর্মকর্তাদের লাশ পুঁতে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় সারা দেশের মানুষ হতবাক হয়ে যায়।

এ ঘটনার পর ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে এসব মামলা নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তরিত হয়। হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে হত্যা মামলায় ২৩ বেসামরিক ব্যক্তিসহ প্রথমে ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি।

পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও ২৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় আসামির সংখ্যা ৮৫০ জনে দাঁড়ায়। এছাড়া বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ৮০৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে তাৎক্ষণিক এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে বিডিআর সদস্যদের একাংশ আত্মসমর্পণ করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত বিডিআর ক্যাম্পে পুনরায় উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী জাতীর উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বিডিআরকে আবারও তাদের দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিদ্রোহী বিডিআরের সকল সদস্য তাদের অস্ত্র জমা দেন এবং পুলিশ বিডিআর সদরদপ্তর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

অন্যদিকে, বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের স্মরণে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় পিলখানায় বিজিবির সদর দপ্তরসহ সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় কোরআন খতম করা হবে। বিজিবির সব মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া, সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধানরা (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া বিজিবি পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিজিবির সব সদস্য কালো ব্যাজ পরিধান করবে।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিকাল সাড়ে ৪টায় আসরের নামাজের পর পিলখানা কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে। ওই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যেসব অঞ্চলে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা

দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। ...