রবিবার | ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি | সকাল ৬:৪১
Home / Uncategorized / নিরবে নিভৃতে কাঁদে কহর দরিয়া তুরাগ নদী, ময়লার ভাগাড় আর দুর্গন্ধে অতিষ্ট স্থানীয়দের জীবনধারা………

নিরবে নিভৃতে কাঁদে কহর দরিয়া তুরাগ নদী, ময়লার ভাগাড় আর দুর্গন্ধে অতিষ্ট স্থানীয়দের জীবনধারা………

রাজধানীর পাশ দিয়ে বয়ে চলা খরস্রোতা নদী কহর দরিয়া খ্যাত তুরাগ। বাংলাদেশের অনেক ইতিহাস বুকে ধারণ করা এক সময়ের প্রবাহিত তুরাগ নদী আজ যেনো মৃতপ্রায়। নদীর পানি দিনে দিনে হয়ে যাচ্ছে দূষিত। আগের সেই ঝকঝকে টলমলানো পানির দেখা আজ আর নেই। তুরাগ নদীর চিরচেনা সেই আজ হয়ে গেছে কালো। নদীতে আগের মতো দেখা মেলেনা পালতুলে স্রোতের বিপরীতে চলাচল করা ছোট-বড় কোন নৌকা। হাতেগোনা কিছু পালবিহীন ছোট নৌকা নদীতে দেখা গেলেও দূষিত কালো পানির দুর্গন্ধে মুষ্ঠিকয়েক লোক পারাপার করলেও নাক চেপে রাখা ছাড়া নেই কোন উপায়।

এক সময়ের প্রবল স্রোতধারা তুরাগ নদীর পানিই ছিল টঙ্গী তথা আশেপাশের মানুষের পানযোগ্য একমাত্র পানির উৎস, অথচ আজ সেই পানযোগ্য তুরাগ নদীর পানির দুর্গন্ধে স্থানীয়দের জীবনধারা হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর। টঙ্গী বাজার, আব্দুল্লাহপুর ও আশেপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উচ্ছিষ্ট ময়লার ভাগাড়ে পরিণত আজ তুরাগ নদী। পরিত্যক্ত উচ্ছিষ্ট ময়লা আর আবর্জনার ঠাই যেনো আজ তুরাগ নদীর বুক। ময়লার ভাগাড়ের স্তূপ দূর থেকে দেখলে মনে যেনো নদীতে জেগে উঠেছে কোন বিশাল চর।
তুরাগ তীরের টংগীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন এন্ড কলেজ, টঙ্গী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, আব্দুল্লাহপুরে অবস্থিত আইচি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বিদ্যালয়ে আসা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনধারা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের ময়লার দুর্গন্ধে জীবনমান ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া মসজিদে নামাজে আসা মুসল্লিদেরও নাভিশ্বাস।
এই তুরাগ তীরেই বছর ঘুরে বসে তাবলীগ জামাত বিশ্ব ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মুসল্লিদের তুরাগ নদীর দূষিত কালো পানি আর ময়লার দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠে যায় ।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনের পানি, টঙ্গী ও গাজীপুরের তুরাগ তীরে গড়ে উঠা ছোট-বড় প্রায় ৭হাজার শিল্প কারখানার অপরিশোধিত পানি তুরাগ নদীর ঐতিহ্যকে বিলীন করে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটা সময় ছিল যখন তুরাগ তীরের মানুষ তুরাগ নদীর পানি পান করাসহ রান্না-বান্নার কাজে ব্যবহার করতো। খাবারের পাতে তুরাগ নদীর মাছ না থাকলে খাবারে কেমন যেনো একটা অপূর্ণতা থাকতো। জেলে সম্প্রদয় তুরাগ নদীর মৎস্য শিকার করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। অথচ আজ তুরাগ নদীতে মাছ তো দূরের কথা কোন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের দেখাও মেলেনা। পাল তুলে নদীর বুকে ভেসে বেড়ানো ছোট-বড় নৌকা আর নদী তীরের প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যর দেখা মেলে না আর।

ময়লার স্তূপে নদীর প্রবাহমান জলধারা ব্যাহত হচ্ছে। নদী হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক নাব্যতা। নদী তীর ও আশেপাশের মানুষের দূষিত পানির দুর্গন্ধে জীবনমান ব্যাহত হচ্ছে। ময়লার ভাগাড়ের স্তূপে প্রতিনিয়ত জন্মাচ্ছে মশা-মাছি ও ক্ষতিকর রোগ জীবাণু। তাই স্থানীয়দের প্রাণের দাবী সরকার তুরাগ নদীর স্বাভাবিক অবস্থান ফিরিয়ে দিতে পদক্ষেপ নেবে।

লেখা
মোঃ শাওন সরকার
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক
পর্দার আড়ালে ২৪ ডটকম

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মুরগির দাম কেজিতে গরুর মাংসের দামকেও ছাড়াল

হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। অন্যান্য নিত্যপণ্যের পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি ...