রবিবার | ২৮শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৩শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি | রাত ১:৩৩
Home / Uncategorized / টঙ্গীতে আতংকের আরেকনাম কিশোর গ্যাং

টঙ্গীতে আতংকের আরেকনাম কিশোর গ্যাং

নাসরিন পারভীন মিমিঃ গাজীপুরের টঙ্গীতে আতংকের আরেক নাম কিশোর গ্যাং। কিশোর গ্যাং বা গ্যাং কালচারকে চাঙ্গা করতে নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে কিশোররা। যাদের বয়স ১৩ থেকে ২০ বছরের মধ্য। কিশোর গ্যাং গ্রুপের আতংকে উদ্বিগ্ন পুলিশ, এলাকাবাসী, অভিভাবকসহ সচেতন সমাজ। এই কিশোর গ্যাংদের হাতে ইতিপূর্বেই সংঘঠিত হয়েছে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, ছিনতাই, জখম, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করছে কিশোর গ্যাং গ্রুপ। এসব ঘটনায় জড়িত কিশোর গ্যাং গ্রুপের বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটকও হয়েছে।
স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের ইভটিজিং, মাদক, নারী ঘঠিত ব্যাপার, স্ট্যান্ড দখল ও সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দসহ নানা বিষয় নিয়ে প্রায়ই এসব কিশোর গ্রুপের মধ্যে সংঘঠিত হচ্ছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ মারামারির ঘটনা ঘটছে। এসব গ্যাং সদস্যদের জন্মদিনকে উপলক্ষ করে বৈদ্যুতিক তার গাছের সাথে বেঁধে আটা-ময়দা মাখিয়ে এবং ডিম নিক্ষেপের মাধ্যমে চলে ঘন্টার পর ঘন্টা অত্যাচার ও নির্যাতন।
এলাকায় পাড়া মহল্লার রাস্তাগুলোতে উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেলের হরণ বাজিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে তারা এলাকায় জানান দিয়ে করছে মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ কোপাকুপি জখম ইত্যাদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
গ্যাং গ্রুপের সদস্যদের অনেকের অভিভাবক সমাজের বিত্তবান ও প্রভাবশালী পাশাপাশি রাজনীতির সাথেও জড়িত তাই তাদেরকে কেউ কিছু করার সাহসও পায়না। এসব গ্যাং গ্রুপের মধ্যে যে, শুধুমাত্র বিত্তবান, প্রভাবশালী বা রাজনীতির সাথে জড়িত তা কিন্তু নয়, বরং কিছু কিছু সদস্যর পরিবার হতদরিদ্রও। সমাজের বিত্তবান, প্রতিপত্তি ও রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুবাধে এসব কিশোর গ্যাংদের কিছু সদস্য প্রশাসনের হাতে গ্রেফতার হলেও রাজনীতি করার ফলে রাজনৈতিক মহলের প্রভাবে তাদের ছেড়েও দিতে হচ্ছে এবং বয়স অল্প হওয়ার কারণে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।

টঙ্গীর সচেতন সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিছু বখে যাওয়া কিশোর এলাকার বাহিরের কিছু বখাটেদের সাথে সঙ্গ দিয়ে তৈরি করছে কিশোর গ্যাং। পড়াশোনা আর ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে তারা আড্ডা জমায়। আস্তে আস্তে তারা যোগাড় করে অল্প-স্বল্প অস্ত্রপাতি আর এসব করেই তারা তৈরি করে ফেলছে কিশোর গ্যাং। দেয়াল লিখনের মাধ্যমে তাদের গ্রুপের নামের জানান দেয় তারা।
বর্তমানে টঙ্গীর প্রতিটি ওয়ার্ডেই তারা তৈরি করছে একেকটা কিশোর গ্যাং। এর মধ্যে টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর এলাকায় “বড় পোলাপাইন”, টঙ্গী বাজার এলাকায় “বেডবস এস টি”, সাতাইশ এলাকায় “বিচ্ছু”, এরশাদ নগর এলাকায় “নষ্ট ছেলে”, মিরাশ পাড়া ও পাগাড় এলাকায় “শিকার” নামক কিশোর গ্যাং গ্রুপের সক্রিয়তা পাওয়া গেছে।
এসব কিশোর গ্যাং গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই পাগাড় ফকির মার্কেট এলাকার ফিউচার ম্যাপ স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শুভ আহাম্মেদ এবং গাজীপুরা কাজীপাড়া চন্দ্রিমা এলাকায় বাড়ীতে ডুকে তৌফিজুল ইসলাম মুন্নাকে খুন করে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। ইতোমধ্যেই গাজীপুর মহানগরীতে থাকা স্কুল, কলেজগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে ভালো কাজের প্রেরণা, মন্দ কাজগুলোতে অনুৎসাহিত মূলক বিশেষ ক্লাশ চালু রয়েছে।
(ধারাবাহিক)

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অমিত শাহ’র কটাক্ষের জবাব দেয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনায় মুখর ভারতীয় গণমাধ্যম

বাংলাদেশকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছিলেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ...