শনিবার | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৮ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি | রাত ৪:১১
Home / জাতীয় / সালাম হে বাঙ্গালী জাতির পিতা,হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী আজ

সালাম হে বাঙ্গালী জাতির পিতা,হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী আজ

মোঃ শাওন সরকারঃ
স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাঙ্গালী ও বাংলাদেশের জাতির পিতা, ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী আজ। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়েরা খাতুন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই,এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি,এ পাশ করেন।
কৈশোর বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে নেতৃত্বের গুণাবলী প্রকাশ হতে থাকে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৩৯ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল পরিদর্শনে আসেন সেই সময়কার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ,কে ফজলুল হক। সেই অঞ্চলের অনুন্নত অবস্থার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সেই ছাত্র জীবনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সহপাঠীদের নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের গুণাবলী ধারণা করা যায়। ১৯৪৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সক্রিয় কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র-সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানকে ফরিদপুর জেলার দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব দেয় মুসলিম লীগ।
১৯৪৭ সালের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন কিন্তু চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নায্য দাবি-দাওয়ার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ১৯৪৯ সালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয় তাই তিনি পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনে অন্যতম সংগঠক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের তিনটি যুগ্ম সম্পাদক পদের একটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচিত হন এবং বলা যায় সেই থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদচারণা। ১৯৫৩ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালে দলকে ধর্ম নিরপেক্ষ চরিত্র দেওয়ার জন্য শেখ মুজিবের উদ্যোগে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়। ১৯৫৬-৫৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ৯ মাস দায়িত্ব পালন করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দেন শেখ মুজিব। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে আওয়ামীলীগকে পুনরুজ্জীবিত করার মতো সাহসিকতা দেখান শেখ মুজিব।
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের প্রথম কারাবন্দীদের একজন ছিলেন শেখ মুজিব।
১৯৬৬ সালে ৬ দফা কর্মসূচীর পর আইয়ুব সরকার শেখ মুজিবকে কারারুদ্ধ করে। শেখ মুজিব ও আরো ৩৪ জনকে আসামী করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার নামে একটি রাষ্ট্রদোহিতার মামলা দায়ের করে। সে মামলার নামকরণ করা হয় রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারের সময় শেখ মুজিবের জনমোহিনী রুপ আরও বিকশিত হতে থাকে এবং পুরো জাতি তাদের নেতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ১৯৬৯ সালের শুরুর দিকে তরুণ প্রজন্মের সংগঠিত গণআন্দোলন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছালে আইয়ুব সরকার দেশে আসন্ন গৃহযুদ্ধ এড়ানোয় চেষ্টায় মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয় এবং ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়।
১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে আবির্ভূত হন। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬৯ টি আসনের বিপরীতে ১৬৭ টি আসনে জয়লাভ করেন।
১৯৭১ সালের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এক ঘোষণায় ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন একতরফাভাবে স্থগিত করেন। এ ঘোষণায় পূর্ব পাকিস্তানে সর্বাত্মক বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠে। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শেখ মুজিব রেসকোর্স ময়দানে দশ লক্ষ লোকের জমায়েতে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষনটি দেন। শেখ মুজিব তাঁর ভাষণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে ব্যর্থ সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আনেন।
২৫ মার্চ পাক বাহিনীর হামলার পর থেকে যে স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়, সে সময় বঙ্গবন্ধু যদিও পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী ছিলেন তবুও তাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মুজিব নগর সরকার নামে অভিহিত অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিরা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠন করেন। বঙ্গবন্ধুকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কও করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের গোটা অধ্যায়ে শেখ মুজিবের অনন্য সাধারণ ভাবমূর্তি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা এবং জাতীয় ঐক্য ও শান্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
পাকিস্তানী জান্তা বঙ্গবন্ধুর বিচার করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিলে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাঁর জীবন বাঁচাতে উদ্যোগী হন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি দখলদারী থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি কারাগার হতে মুক্তি দেওয়া হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব লন্ডন হয়ে বীরের বেশে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন।
দেশের জাতির পিতাকে লাখ লাখ মানুষ উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল গালিচা সম্বর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেয় বীর বাঙ্গালীরা।
বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে প্রথম সরকারের মাত্র সাড়ে তিন বছরের সংক্ষিপ্ত সময়টুকু নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং জাতি গঠন শুরু করেন।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশের নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রষ্ঠিতা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণবাসন সহ একটি দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে থাকেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের জনরোষ থেকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত জাতিকে রক্ষা করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ লক্ষ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করা । এরকম আরো নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় তাঁকে।
পরিশেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সেই ভয়াল রাত্রিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ীতে অবস্থানরত তাঁর পরিবারের বাকী সদস্যদের একদল বিপদগামী সেনা সদস্যরা নির্মমভাবে হত্যা করে। আর এতে করেই বাংলাদেশ হারায় তাঁর স্থপতিকে, বিশ্ব হারায় এক মহান নেতাকে।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যেসব অঞ্চলে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা

দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। ...