বৃহস্পতিবার | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি | রাত ১০:৫৭
Home / দূর্ঘটনা ও শোক সংবাদ / টঙ্গীতে আগুনে পুড়ে ছাই হলো শাহিনের তিল তিল করে জমানো স্বপ্ন

টঙ্গীতে আগুনে পুড়ে ছাই হলো শাহিনের তিল তিল করে জমানো স্বপ্ন

নার্গিস আক্তার স্মৃতিঃ
টঙ্গীতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো শাহিন আলমের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন। গতকাল শনিবার গভীর রাতে টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া টেকবাড়ী এলাকায় চিশতীয়া ষ্টোর নামে এক মুদি দোকানে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। দোকানের আগুন লাগার পরপরই দোকানের সাটারে কারেন্ট লেগে যায়। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভাতে চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। তবে ৪৯ ও ৫০ নং ওয়ার্ডে ঢোকার মুল সড়কটি কে বা কাহারা তালাবন্ধ করে রাখায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী প্রবেশে বিঘ্ন ঘটে । পরে অন্য সড়ক দিয়ে গাড়ী আসতে দোকানের সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস এসে ১০-১৫ মিনিটে আগুন নিভিয়ে ফেলে। আগুনে ৩টি ফ্রিজ, বিকাশ ও ফ্লেক্সীলোড করার ৬টি মোবাইল ফোন নগদ ২০,০০০ টাকাসহ সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এঘটনায় টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ১০ -১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিভাতে সক্ষম হই। দোকানে থাকা সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিক ভাবে প্রায় ৮-১০ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। বৈদ্যুতিক সট সার্কিটের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকাবাসী জানায়, শাহিন আলম বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার হোসনাবাদ গ্রামের মৃত আবদুল লতিফের ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই শাহ্ আলম, ছোট দুই বোন ও মা শাহানারা বেগমকে নিয়ে জীবন যুদ্ধ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০১৪ ইং সালে টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় স্বল্প টাকায় চায়ের দোকানের মাধ্যমে সংসার চালাতো শাহিন আলম। খেয়ে না খেয়ে ভাই ও মাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দোকান চালিয়ে ছোট এক বোনকে বিয়ে দেয় শাহিন। দোকান থেকে আয় করে সেই টাকা দিয়ে দোকানের মালামাল বৃদ্ধি করতো। এছাড়া ব্যাবসার জন্য শাহিন শক্তি,আশা ও গ্রামীন ব্যাংক থেকে প্রায় চার লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল ক্রয় করেছে। চিশতিয়া ষ্টোর এলাকার সকলের পরিচিত বর্তমানে তার দোকানে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশী টাকার মালামাল ছিলো যা গত রাতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকানদার শাহিন আলম জানান, খেয়ে না খেয়ে অতি কষ্টে এই দোকান করেছি। আমার জীবনের সর্ব উপার্জন শেষ হয়ে গেছে। এখনো ছোট বোনকে বিয়ে দিতে পারি নাই। মা, ভাই, বোনকে নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো, কার কাছে যাবো ।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

টঙ্গীতে অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার

মোঃ মুজাহিদুল ইসলামঃ গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার প্রত্যাশার মাঠ সংলগ্ন তুরাগ ...