বৃহস্পতিবার | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি | সকাল ৬:৩১
Home / জাতীয় / করোনার থেকেও বেশি ভয়াবহ ক্ষুধার জ্বালা, টঙ্গীতে ক্ষুধার জ্বালায় হতদরিদ্র মানুষের হাহাকার আর আর্তনাদ

করোনার থেকেও বেশি ভয়াবহ ক্ষুধার জ্বালা, টঙ্গীতে ক্ষুধার জ্বালায় হতদরিদ্র মানুষের হাহাকার আর আর্তনাদ

মোঃ মুজাহিদুল ইসলামঃ
বিশ্বব্যাপী মহামারী নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সংক্রমণের মহামারী বিস্তার থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারী-বেসরকারী অফিস, শিল্প কল-কারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ৩১ মার্চ এই ছুটির সময়কাল বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আর এতে করেই যেনো বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর, হতদরিদ্র, রিকশাচালক, ভ্যানচালক সহ অন্যান্য নিম্ন আয়ের মানুষ। মহামারী করোনা ভাইরাস থেকেও যেনো আরও বেশি মহামারী আকার ধারণ করেছে খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষের ক্ষুধার জ্বালা। এসকল খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষের আর্তনাদ দেখার মতো কেউ যেনো নেই।

গতকাল ১ এপ্রিল বুধবার পর্দার আড়ালে ২৪.কম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নং ওয়ার্ডের সবচেয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস নদীর পাড় দক্ষিণ পাশে এক অনুসন্ধান চালায়। এই অনুসন্ধানে উঠে আসে মানবতার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এলাকায় গণমাধ্যম কর্মীরা এসেছেন এই খবরে হতদরিদ্র নিম্ন আয়ের মানুষেরা ছুটে আসেন তাদের করুন অবস্থার কথা বলার জন্য।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নং ওয়ার্ডের সরকার বাড়ী রোডস্থ জনৈক আতাউর রহমানের বাড়ীর ভাড়াটিয়া বৃদ্ধা আমেনা (৬৫) বলেন, আমি আমার স্বামী আর মেয়েকে নিয়ে অনেক বছর আগে থেকেই এই এলাকায় বসবাস করে আসছি। আমার স্বামী আগে সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী করত, কিন্তু বয়স হয়ে যাওয়াতে আমার স্বামীকে এখন আর কেউ চাকুরী দেয়না। মেয়েটাকে সারাজীবনের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে বিয়ে দিয়েছিলাম কিন্তু মেয়ের জামাই আমার মেয়েটাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমরা বুড়া-বুড়ি মেয়েকে নিয়ে আজ তিনদিন হয় শুধুমাত্র পানি খেয়ে বেঁচে আছি। দেশের সরকার সহ সকল নেতাদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি আমাদের যদি একটু খাবার দিতে না পারেন তবে একটু বিষ এনে দিয়ে যান আমরা বিষ খেয়ে মরে যাই। ক্ষুধার যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছিনা এই বলেই বৃদ্ধা আমেনা আঁচলে মুখ লুকিয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন।

একই এলাকার শান্তা (৩৫) পর্দার আড়ালে ২৪.কম প্রতিনিধিকে বলেন, আমি উত্তরার জয়নাল মার্কেট এলাকার লতিফ মার্কেটে ঝাড়ুদারের কাজ করি। সরকারের নির্দেশে মার্কেট বন্ধ করে দিয়েছে। আমি সহ আমাদের কোন শ্রমিককে কোন বেতন দেয়া হয়নি। আমি কোন ত্রাণ না পেয়ে খুবই খারাপ অবস্থায় আছি।
শান্তার মতো একই এলাকার নাজমা বেগম (৪০) এর ও একই অবস্থা বলে জানান তিনি।

নদীর পাড় এলাকার বকুল বেগম (৪০) নামের এক হতদরিদ্র মহিলা বলেন, আমি মানুষের বাসায় কাজ করে দিন আনি দিন খাই। আজ বেশ কয়েকদিন হলো একবেলা খেলে অন্য বেলা না খেয়ে থাকি। আজ আমার মনে হচ্ছে গরীব হয়ে জন্ম নেয়াটাই ছিল আমাদের আজন্মের পাপ। এই কথা বলেই বকুল বেগম তার সন্তানকে বুকে চেপে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নং ওয়ার্ডের পূর্ব আরিচপুর এলাকার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন (৩৮) এর সাথে কথা হলে তিনি পর্দার আড়ালে ২৪.কম প্রতিনিধিকে আক্ষেপের সুরে বলেন, আমি একজন ভ্যানচালক। আজ প্রায় ৮-১০ দিন হলো ভ্যান নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারিনি। আমি আমার পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে খুবই ভয়াবহ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। করোনা ভাইরাসের কারনে আমরা যতটানা আতংকে আছি তার থেকে বেশি আতংকে আছি ক্ষুধার জ্বালায়।
পর্দার আড়ালে ২৪.কম প্রতিনিধির এক প্রশ্নের জবাবে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি স্থানীয় এক কাউন্সিলরের নিকট গিয়েছিলাম তিনি আমাকে বলেছেন ভোটার আইডি কার্ড এই এলাকার না হলে আমি কিছু করতে পারবোনা। তোফাজ্জল হোসেন করজোড় মিনতি করে বলেন, আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি সরকার যেনো আমাদের মতো খেটে খাওয়া দিনমজুরদের জন্য দুবেলা দু’মুঠো ভাতের ব্যবস্থা যেনো করে দেন। যদি তা করে তাহলে আমরা করোনা ভাইরাসে মরবো না, মরবো ক্ষুধার জ্বালায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যেসব অঞ্চলে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা

দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। ...