শুক্রবার | ২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি | সন্ধ্যা ৭:১৩
Home / কৃষি সংবাদ / গাইবান্ধায় এক কেজি টমেটোর দাম দুই টাকা

গাইবান্ধায় এক কেজি টমেটোর দাম দুই টাকা

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
২০১৯ সালে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল গাইবান্ধা জেলা। বন্যায় গাইবান্ধার স্থানীয় কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
২০১৯ সালের বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গাইবান্ধার প্রান্তিক কৃষকেরা এবার হাড়ভাঙ্গা শ্রম দিয়ে জমিতে উৎপাদন করেন মরিচ, পেঁয়াজ রসুন, করলা, টমেটো, পটল ও মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল। ফলন ভালো হওয়ায় তারা মনে করেছিলেন বন্যার ক্ষতির ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হবে তাদের। কিন্তু করোনা ভাইরাস তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে এ জেলায় সবজি চাষ করে যারা কোটিপতি হয়েছেন, পেয়েছেন কৃষি পুরষ্কারসহ বিভিন্ন সনদ এবারের হাহাকারে তাদের কপালে ভাজ পড়েছে হতাশার। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
করোনা ভাইরাসের কারণে বেশ কিছুদিন হলো লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে গাইবান্ধা জেলাকে। এতে বিপাকে পড়েছেন সবজি চাষীরা। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির কোনো উদ্যোগ না থাকায় এবারও তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হতে চলেছেন। লকডাউনের কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার না আসায় বাজারে তাদের কৃষিপণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দামে।

সচেতন মহলের দাবি নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য বিক্রিসহ সরকারিভাবে বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
প্রান্তিক কৃষকদের কথা ভেবে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা জানান।

তেমনি এক হতাশ কৃষক গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের কৃষক আমির হোসেন। মাত্র ৫ শতাংশ জমি থেকে আজ তিনি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। একটি জমিতে চারটি ফসল ফলিয়ে পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক। গাইবান্ধায় আদর্শ চাষী হিসেবে তার বেশ সুনামও রয়েছে। কিন্তু গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় তার অর্জিত সুনামসহ সব কিছু তলিয়ে গেছে পানিতে।

কান্নাকণ্ঠে আমির হোসেন জানান, ভয়াবহ বন্যায় তার সবজি ক্ষেতের ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনেক কষ্ট করে সেই ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতে এ বছরও পড়েছেন নতুন বিপদে।

তিনি জানান, এ বছর সবজির ব্যাপক আবাদ হয়েছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে পানির দামে। দুই টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে টমেটো। করলার কেজি এক টাকা। ১০০ টাকার মিষ্টি কুমড়া ১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় গলায় দড়ি দিয়ে মরণ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

সাঘাটা উপজেলার হলদিয়ার চরের কৃষক আবেদ আলী জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে তার অনেক লোকসান হয়েছে। প্রতিদিন সকালে লাল শাক ও মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে সংসার চালাতেন তিনি। এখন এসব পণ্য তাকে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বোনারপাড়া ইউনিয়নের কৃষক আবুল চাষী জানান, লকডাউনের মাঝেও সবজি বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নির্ধারণ করে দিলে হয়তো বিভিন্ন জেলার পাইকাররা আসতো কিনতে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন।

সাঘাটা পদুমশহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তৌহিদুজ্জামান স্বপন জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন বাজার থেকে কৃষিপণ্য ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রেরণ করলেই এ জেলার কৃষকদের ন্যায্য দামের সংকট মিটবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নওগাঁ রাণীনগর উপজেলায় সবজি চাষে স্বাবলম্বী নারী চাষি সানজিদা

জেলা সংবাদদাতা: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ছোট যমুনা নদী তীরবর্তী কুজাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের ...