বৃহস্পতিবার | ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি | রাত ১১:৪১
Home / ইসলাম / পবিত্র মাস রমজান

পবিত্র মাস রমজান

পর্দার আড়ালে ২৪.কম ইসলামিক ডেস্কঃ
রমজান মাসের রোজা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরয। যে রাতে প্রথম চাঁদ দেখা যায়, সে রাত থেকে পুণরায় ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার রাত না আসা পর্যন্ত প্রতিরাতে এশার ফরয ও সুন্নত নামায বাদ দু’ দু’ রাকআত করে বিশ রাকআত তারাবীহর নামায আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং পূর্ণ মাসের তারাবীহর নামাযের মধ্যে পূর্ণ কোরআন খতম করাও সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। অতএব, এ মাস প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য বড় রহমত ও বরকতের মাস। ছবর ও ধৈর্য্য শিক্ষার মাস। খরচের মাস।

যাকাত প্রদান করে সত্তর গুণ ছাওয়াব অর্জনের মাস। এ কারণে যাকাত দাতাদের অধিকাংশ এ মাসেই যাকাত-খয়রাত দান করে থাকেন। কারণ, এতে সত্তর গুণ বেশি ছাওয়াব পাওয়া যায়। এ মাস বিশেষভাবে কোরআন তেলাওয়াতের মাস। কোরআনে হাফেজগণ কোরআন পাঠ নিশ্চয়ই বেশি বেশি পাঠ করবেন এবং যারা দেখে পড়েন তাদেরও বেশি পড়া দরকার। যারা কোরআনের হাকীকতের অন্বেষণকারী তাদেরও এ মাসেই রোজার পবিত্রতার সাথে সাথে আত্নার পবিত্রতার সঙ্গে কোরআনের হাকীকত বেশি বেশি তালাশ করা দরকার। কারণ যেহেতু, এ মাসেই রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর ওপর কোরআন প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি সারা বছরের অবতীর্ণ কোরআন হযরত জিব্রাইল আমীনের সাথে দওরা (পরস্পর একজন আরেক জনের কোরআনের হেফজ শোনানোর নাম দওর) করেছেন।
আর এ মাসেই আল্লাহ্‌ পাকের রহমত বেশি অবতীর্ণ হয়। এ কারণে এ মাসেই সকল দিক থেকে আত্নার পবিত্রতার সাথে কোরআন চর্চা বেশি পরিমাণ করা প্রয়োজন। কিন্তু খবরদার, কোরআন চর্চার মধ্যে নিয়্যত খারাপ করা এবং হীনতা মনে আনা যাবে না।

কিছু আর্থিক লোভে টাকা নেয়ার চুক্তি করে নিয়্যত খারাপ করে কোরআন তেলাওয়াত করা যাবে না। কোরআন পাঠ করা একমাত্র আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ, তাঁর প্রিয় হওয়ার মহব্বত লাভের উদ্দেশ্যে হতে হবে। কিন্তু যারা তারাবীহর মধ্যে কোরআন শুনবে অথবা কোন আলেমের মজলিশে কোরআনের তাফসীর শুনবে অথবা হযরতের জীবনী আলোচনা শুনবে তাদের কর্তব্য হলো, জান-প্রাণ দিয়ে যথাসাধ্য মাল খরচ করে ওই হাফেজ বা আলেমের মর্যাদা রক্ষা করা।

রমজান মাসের শেষ দশকে এতেকাফ করা খাছ ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ্‌ পাকের খাছ রহমত আরও বেশি করে অর্জন করার আরও একটি উপায়। অর্থাৎ, মহল্লার মসজিদে নির্জনে নিভৃতে বসে আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সর্বপ্রকার বাজে কথা ও কাজ পরিহার করে আল্লাহ্‌র ধ্যানে বিভোর থাকার নাম এতেকাফ।
খাঁটি এতেকাফ সকল পাপ ক্ষমা হয়ে যায়। দিল পরিস্কার হয়ে যায় এবং আল্লাহ্‌র নিকট খাছ দরজা অর্জিত হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হযরত মুসা (আঃ) এর কাহিনী

পর্দার আড়ালে ২৪.কম ইসলামিক ডেস্ক!! হযরত ইবনু আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত তিনি ...