সোমবার | ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে ভাদ্র, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৬ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি | সকাল ৬:৩৪
Home / ইসলাম / ফজিলত পূর্ণ মাস মাহে রমজান

ফজিলত পূর্ণ মাস মাহে রমজান

পর্দার আড়ালে ২৪.কম ইসলামিক ডেস্কঃ
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জামালপুর ও ময়মনসিংহে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে মুসলমানদের সিয়াম সাধনার (রোজা) মাস পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে শনিবার (২৫ এপ্রিল)। চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী (২০) মে বুধবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

মাহে রমজান অফুরন্ত রহমত, বরকত, মাগফিরাত, নাজাত ও ফজিলত পূর্ণ মাস। পবিত্র এই রমজান মাসের রোজার ফজিলত বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। নবী করিম (সাঃ) মাহে রমজানের রোজার ফজিলত বণর্না করে বলেছেন “যারা নিজ পরিবারবর্গ সহ সন্তুষ্টি সহকারে রমজানের ৩০ টি রোজা রেখেছে, হালাল বস্তু দ্বারা ইফতার করেছে আল্লাহ তাআলা তাদের ওই প্রকার পুন্যদান করবেন, যেমন তারা মক্কা ও মদিনা শরীফে রোজা রেখেছে”।

আল্লাহপাক হজরত মুসা (আঃ) কে একদা বলেছিলেন, “হে মুসা যে ব্যক্তি এই রমজান মাসে রোজা রাখবে আমি তার আমল নামায় মানুষ, জ্বিন, পরী ও সকল জীব জন্তুর পূণ্যের সওয়াব লিখে দেব। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি এই মাসে একজন রোজাদারকে ইফতার করাবে তার (সগীরা) গুনাহ সমূহ মাফ হয়ে যাবে এবং দোজগের আগুন থেকে সে মুক্তি পাবে এবং সে সেই রোজাদারের সম পরিমান সওয়াব পাবে, অথচ তার রোজাদারের সওয়াবের কমতি হবে না”।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) একদা শাবান মাসের শেষ দিনে সাহাবায়ে কেরামকে লক্ষ্য করে মাহে রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বলেছিলেন “হে মানবগন তোমাদের প্রতি একটি মহান মোবারক মাস ছায়া ফেলেছে। এই মাসে সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম একটি রজনী আছে। যে ব্যক্তি এই মাসে নেক আমাল দ্বারা আল্লাহ পাকের সান্নিধ্য লাভের কামনা করে, সে যেনো অন্য সময়ে কোন ফরজ আদায় করার ন্যায় কাজ করল। আর এই মাসে যে ব্যক্তি কোন ফরজ কাজ আদায় করে, অন্য সময়ে ৭০টি ফরজ আদায়ের নেকি লাভ করার সমতুল্য কাজ করল। এটি সংযমের মাস, আর সংযমের ফল হচ্ছে জান্নাত”।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, রমজানের প্রথম রাত্রি থেকে শয়তান গুলোকে বন্দি করা হয় এবং অবাধ্য জ্বীন গুলাকে আবদ্ধ রাখা হয়। জাহান্নামের দরজা গুলো বন্ধ রাখা হয়, সারা রমজান মাসে তা আর খোলা হয় না। আর জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়, সারা রমজান মাসে তা আর বন্ধ করা হয় না। হাদিস শরীফে বণির্ত আছে যে, নবী করিম(সাঃ)ফরমান, “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখে এবং এর রাত্রি গুলাতে ঈমান ও ইহতিসাবের সঙ্গে ইবাদত বন্দেগী করে, সে মায়ের গর্ভ থেকে সদ্য ভূমিষ্ট সন্তানের ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যাবে”। হাদিস শরীফে আরও উল্লেখ আছে যে, রমজান মাস রহমত বরকত, গুনাহ মাফ ও দোয়া কবুলের মাস। এই পবিত্র মাসে ফেরেশতারা মানুষের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বলেন, “হে কল্যান কামনাকারী আল্লাহ তাআলার কথা স্মরন করো, তার ইবাদত বন্দেগীতে রত হও এবং একনিষ্ঠ মনে তওবা কর। তোমরা এই মাসে যা কামনা করবে ও প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাআয়ালা তা কবুল করবেন”।

মাহে রমজানের একটি বিশেষ ফজিলত বা মাহাত্ন হচ্ছে, এই পবিত্র রমজান মাসে আল কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। রমজান মাসের রোজা মানুষকে পাপ-পন্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়, মানুষের কুপ্রবৃত্তি ধুয়ে মুছে দেয় এবং আত্নাকে দহন করে ঈমানের শাখা প্রশাখা সন্জীবীত করে। সর্বোপরি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। এই মর্মে মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি খুশি একটি হলো তার ইফতারের সময়, আর অপরটি হলো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়”। (বুখারী ও মুসলিম)

নবী (সাঃ) আরো বলেছেন, রোজাদারের মুখের ঘ্রান আল্লাহর নিকট মেশকেআম্বরের ঘ্রান অপেক্ষা অধিকতর পছন্দনীয়। এমনিভাবে পবিত্র কোরআন মাজিদে ও হাদিস শরীফে মাহে রমজানের রোজার বহুবিধ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। বস্তুত, রোজা উম্মতে মোহাম্মাদীর জন্য বরকত ও রহমত স্বরূপ। এর মধ্যে আল্লাহ তাআলার নেয়ামত, বরকত তথা মানুষের জন্য মুক্তি, শান্তি ও মঙ্গল নিহিত রয়েছে। তাই পবিত্র কোরাআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষনা করেছেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ রমজান মাসে উপস্থিত(জীবিত)থাকে, তারই রোজা পালন করা কর্তব্য।(সুরা আল বাকারা আয়াত-১৮৫)

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হযরত মুসা (আঃ) এর কাহিনী

পর্দার আড়ালে ২৪.কম ইসলামিক ডেস্ক!! হযরত ইবনু আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত তিনি ...