শুক্রবার | ১৫ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি | সকাল ৭:৩৪
Home / আন্তর্জাতিক / ডাক্তাররা ধরেই নিয়েছিলেন আমাকে বাঁচানো যাবে নাঃ বরিস জনসন

ডাক্তাররা ধরেই নিয়েছিলেন আমাকে বাঁচানো যাবে নাঃ বরিস জনসন

পর্দার আড়ালে ২.কম নিউজ ডেস্ক!!
তাকে বাঁচানোর আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন তার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণার জন্য।

দৈনিক সান কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে সদ্য সেরে ওঠা ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
রবিবার (৩) মে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অস্বীকার করব না সেটা খুবই কঠিন সময় ছিল। আমাকে যারা চিকিৎসা করছিলেন, তারা ধরেই নিয়েছিলেন আমাকে আর বাঁচানো যাবে না।

তৈরি হয়েছিলেন আমার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণার জন্য। স্তালিনের (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্তালিন) মৃত্যুর সময় যেমনটা হয়েছিল, প্রায় তেমনই। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার কোভিড-১৯ সংক্রমণের দিনগুলো নিয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন বরিস জনসন।

বরিস জনসন বলেন, তিনি বুঝতে পারছিলেন পরিস্থিতিটা আর নিয়ন্ত্রণে থাকছে না তার চিকিৎসকদের। তারা আপৎকালীন ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। তার কথায় আমার মৃত্যু হলে কী কী করণীয়, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছিল চিকিৎসকদের।

তিনি যে কোভিড-১৯ সংক্রমণের শিকার হয়েছেন, ৫৫ বছর বয়সী ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী তা প্রথম ঘোষণা করেন গত (২৭) মার্চ। তবে এও বলেছিলেন, তার মধ্যে কয়েকটি প্রাথমিক লক্ষণের আভাস মিলেছে। ঘোষণার পরেই নিজেকে এক সপ্তাহের জন্য গৃহবন্দি করে ফেলেন বরিস। কিন্তু তার পরেও রোগের লক্ষণ বাড়তে থাকায় গত (৫) এপ্রিল আরও পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য তাকে ভর্তি করাতে হয় হাসপাতালে। ভর্তি করানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বরিসকে পাঠাতে হয় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে। সেখানে টানা তিন দিন তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয় জানিয়েছেন বরিস জনসন।

বরিস জনসন বলেন, যেতেই চাইনি হাসপাতালে। ডাক্তারদের জোরাজুরিতেই হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছিলাম। (১২) এপ্রিল বরিস জনসন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
সাক্ষাৎকারে বরিস জনসন বলেছেন, আমি কিন্তু নিজে কখনোই ভাবিনি ফিরে আসতে পারব না। বরং কাজে ফেরার জন্য সব সময়ই উন্মুখ হয়ে থেকেছি। ছটফট করেছি।
হাসপাতাল থেকে ফেরার পর গত সোমবারই তার কার্যালয়ে যান ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। বুধবার তিনি বাবাও হন, তার প্রেমিকা ক্যারি সাইমন্ডস একটি শিশুর জন্ম দেওয়ায়। ক্যারি বলেছেন, হাসপাতালে ওকে বাঁচিয়ে রাখতে তিন দিনে অনেক অনেক লিটার অক্সিজেন দিতে হয়েছিল চিকিৎসকদের।

তবে ন্যাশনাল হেল্‌থ সার্ভিসের যে চিকিৎসকেরা টানা তিন দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা করেছেন, তাদের প্রতি বরিস জনসন ও তার প্রেমিকা ক্যারি যে শুধু কৃতজ্ঞতাই নয়, নিক প্রাইস, ও নিক হার্ট নামে যে দুই চিকিৎসকের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া বরিসের ফিরে আসা সম্ভব ছিল না, তাদের নাম জোড়া লাগিয়েই সদ্যোজাতের নামকরণও করেছেন বরিস ও ক্যারি। সদ্যোজাতের নাম দেওয়া হয়েছে, উইলফ্রেড লরি নিকোলাস জনসন।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ব্লিনকেনকে উইঘুদের বন্দি শিবির ও নির্যাতন বন্ধের আহ্বান

সম্প্রতি জিনজিয়াংয়ে উইঘুদের প্রতি চীনের অমানবিক আচরণ ও গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ...