মঙ্গলবার | ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১১:০৩
Home / ইসলাম / “লকডাউনে দিন আনে দিন খায় এক বৃদ্ধের করুন অবস্থা”

“লকডাউনে দিন আনে দিন খায় এক বৃদ্ধের করুন অবস্থা”

শাওন মৃধা, ব্যুরো চিফ (বরিশাল)!!
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় নিম্ন আয়ের এবং দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ এখন খুবই কষ্টে আছে। তাই এখনই সময় যারা ধনী তারা তাদের সম্পদের যাকাত আদায় করার উপযুক্ত সময়। যাকাত আদায় করার উপযুক্ত সময় এখনই কা’রণ ল’কডাউন এর জন্য দিন আনে দিনখায় মানুষ গুলো অ’সহায় হয়ে পড়েছে। তিন বেলা ঠিক মত খেতে পা’চ্ছে না। ইসলামে সালাত-রোজার মতই যাকাত আদায় একটি ফরজ ইবাদত। যাকাত হচ্ছে অর্থের ইবাদত। আ’র্থিকভাবে সচ্ছল মানুষদের ওপর যাকাত আদায় বা’ধ্যতামূলক।

আর আর্থিক সচ্ছলতার মাপকাটি ইসলাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। যাকাতের পরিমাণ নির্ণয়ের ফর্মুলাও ইসলাম বলে দিয়েছে। আর যাকাতের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করতে হবে, সেটাও ইসলাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইসলামি পরিভাষায় যাকাত হচ্ছে সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ কোনো অ’সহায়কে মুসলমানকে দুনিয়াবী স্বা’র্থ ছাড়া প্রদান করা। যাকাত হচ্ছে অ’সহায়, অ’ভাবী, অ’ক্ষম এবং সুবিধাবঞ্চি’ত মুসলিম জনগোষ্ঠির সামাজিক নি’রাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দা’রিদ্র্য বি’মোচনের মূল হা’তিয়ার। যাকাত হচ্ছে একটি মানবিক সমাজ গঠনের হা’তিয়ার এবং মানবকল্যাণই যাকাতের মূ’লমন্ত্র। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে একজন মানুষের সম্পদ পবিত্রতা অর্জন করে, আর সেই যাকাতের অর্থ দিয়ে ব’ঞ্চিত মানুষের স’মস্যা সমাধান হয়। যাকাত হচ্ছে ধনীদের সম্পদে গ’রিবের অধিকার, যা আদায় করতে ধনী ব্যক্তি বা’ধ্য। মহান আল্লাহ কোরআন শরিফে সালাত আদায়ের সাথে সাথে যাকাত আদায়েরও নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআন শরীফে তিনি মোট ৩২ বার যাকাত আদায়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ এককভাবে ৭ বার আর সালাতের সাথে ২৫ বার যাকাত আদায়ের কথা বলেছেন। প্রকৃত পক্ষে যাকাত হচ্ছে মুসলমানদের জন্য একটি ফরজ ইবাদত। ঈমান আনার পর ইসলামের বিধানসমূহকে পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করতে হবে এবং পালন করতে হবে। আপনি কিছু বিধান পালন করলেন আর কিছু বিধান পালন করলেন না- এ রকম সুযোগ ইসলামে নেই। স্বাভাবিকভাবেই না সালাত আদায়ের মতো যাকাতও আদায় করতে হবে। যাকাত আদায়ের পর সেই অর্থ যাকাতের অর্থ ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত খাতসমূহে ব্যয় করতে হবে। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত যাকাত আদায় সম্পর্কিত আয়াতসমূহ থেকে এখানে কয়েকটি আয়াত উদ্ধৃত করা হচ্ছে। সূরা আল বাকারা (البقرة), আয়াত: ৪৩ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱرْكَعُوا۟ مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ উচ্চারণঃ ওয়া আকীমুস সালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ওয়ারকা‘ঊ মা‘আর রা-কি‘ঈন। অর্থঃ আর সলাত কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং সালাতে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়। সূরা আল মুজাম্মিল (المزّمّل), আয়াত: ২০ إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَىٰ مِن ثُلُثَىِ ٱلَّيْلِ وَنِصْفَهُۥ وَثُلُثَهُۥ وَطَآئِفَةٌ مِّنَ ٱلَّذِينَ مَعَكَ وَٱللَّهُ يُقَدِّرُ ٱلَّيْلَ وَٱلنَّهَارَ عَلِمَ أَن لَّن تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَٱقْرَءُوا۟ مَا تَيَسَّرَ مِنَ ٱلْقُرْءَانِ عَلِمَ أَن سَيَكُونُ مِنكُم مَّرْضَىٰ وَءَاخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِى ٱلْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِن فَضْلِ ٱللَّهِ وَءَاخَرُونَ يُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ فَٱقْرَءُوا۟ مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَقْرِضُوا۟ ٱللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا وَمَا تُقَدِّمُوا۟ لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا وَٱسْتَغْفِرُوا۟ ٱللَّهَ إِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌۢ উচ্চারণঃ ইন্না রাব্বাকা ইয়া‘লামুআন্নাকা তাকূমুআদনা- মিন ছু লুছাইল্লাইলি ওয়া নিসফাহূওয়া ছু লুছাহূওয়া তাইফাতুম মিনাল্লাযীনা মা‘আকা ওয়াল্লা-হু ইউকাদ্দিরুল্লাইলা ওয়ান্নাহা-রা ‘আলিমা আল্লান তুহসূহু ফাতা-বা ‘আলাইকুম ফাকরাঊ মা- তায়াছছারা মিনাল কুরআ-নি ‘আলিমা আন ছাইয়াকূনুমিনকুম মারদা- ওয়া আ-খারূনা ইয়াদরিবূনা ফিল আরদিইয়াবতাগূনা মিন ফাদলিল্লা-হি ওয়া আ- খারূনা ইউকাতিলূনা ফী ছাবীলিল্লা-হি ফাকরাঊ মা-তায়াছছারা মিনহু ওয়া আকীমুসসালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া আকরিদূ ল্লা-হা কারদান হাছানাও ওয়ামা- তুকাদ্দিমূ লিআনফুছিকুম মিন খাইরিন তাজিদূ হু ‘ইনদাল্লা-হি হুওয়া খাইরাওঁ ওয়া আ‘জামা আজরাও ওয়াছতাগফিরুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম। অর্থঃ আপনার পালনকর্তা জানেন, আপনি এবাদতের জন্যে দন্ডায়মান হন রাত্রির প্রায় দু’তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও তৃতীয়াংশ এবং আপনার সঙ্গীদের একটি দলও দ’ন্ডায়মান হয়। আল্লাহ দিবা ও রাত্রি পরিমাপ করেন। তিনি জানেন, তোমরা এর পূর্ণ হিসাব রাখতে পার না। অতএব তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষ’মা পরায়ন হয়েছেন। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ, ততটুকু আবৃত্তি কর। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অ’সুস্থ হবে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশে-বিদেশে যাবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে জেহাদে লিপ্ত হবে। কাজেই কোরআনের যতটুকু তোমাদের জন্যে সহজ ততটুকু আবৃত্তি কর। (((তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও।))) তোমরা নিজেদের জন্যে যা কিছু অগ্রে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে উত্তম আকারে এবং পুরস্কার হিসেবে বর্ধিতরূপে পাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু। সূরা হা-মীম সেজদাহ্‌ (فصّلت), আয়াত: ৭ ٱلَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٰةَ وَهُم بِٱلْءَاخِرَةِ هُمْ كَٰفِرُونَ উচ্চারণঃ আল্লাযীনা লা-ইউ’তূনাঝঝাকা-তা ওয়া হুম বিলআ-খিরাতি হুম কা-ফিরূন। অর্থঃ যারা যাকাত দেয় না এবং পরকালকে অস্বীকার করে। সূরা আল-মুজাদালাহ (المجادلة), আয়াত: ১৩ ءَأَشْفَقْتُمْ أَن تُقَدِّمُوا۟ بَيْنَ يَدَىْ نَجْوَىٰكُمْ صَدَقَٰتٍ فَإِذْ لَمْ تَفْعَلُوا۟ وَتَابَ ٱللَّهُ عَلَيْكُمْ فَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَٱللَّهُ خَبِيرٌۢ بِمَا تَعْمَلُونَ উচ্চারণঃ আ আশফাকতুম আন তুকাদ্দিমূবাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকা-তিন ফাইযলাম তাফ‘আলূওয়া তা-বাল্লা-হু ‘আলাইকুম ফাআকীমুসসালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ ওয়াল্লা-

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রোজা সম্পর্কে ৫ হাদিস

পর্দার আড়ালে ২৪.কম ইসলামিক ডেস্ক!! ১) হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, ...