বুধবার | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৫ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি | রাত ৯:২৩
Home / জাতীয় / যেসব নির্দেশনা মানতে হবে ঈদের জামাতে

যেসব নির্দেশনা মানতে হবে ঈদের জামাতে

বিশেষ প্রতিনিধি!!
সোমবার (২৫) মে পালিত হবে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। বিশ্ববাসীর কাছে এবারের ঈদ একটু ভিন্ন আঙ্গিকের হতে যাচ্ছে, কেননা বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) তার বিষাক্ত নিঃশ্বাসে গ্রাস দিচ্ছে চিরাচরিত বিশ্বকে। যার ভয়াল থাবা পড়েছে বাংলাদেশেরও। তাই এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঈদের নামাজের জামাতের ক্ষেত্রেও রয়েছে সরকারী দিকনির্দেশনা, রয়েছে স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনাও।

সরকার কর্তৃক আদেশ করা হয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির জন্য ঈদুল ফিতরের নামাজ ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে কাছের মসজিদে আদায় করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত ১৩টি নির্দেশনা মানা সাপেক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে মসজিদে ঈদের জামাতের অনুমতি দিয়েছে। ঈদের দিন মুসলমানরা মসজিদ কিংবা ঈদগাহে দুই রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায় করে থাকে।

১৩ নির্দেশনায় যা আছে-

১. ইসলামী শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারাবিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

২. ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

৩. করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে ওজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

৪. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

৫. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৬. ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৭. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে।
৮. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

৯. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

১০. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

১১. করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধ নিশ্চিতে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

১২. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদেরকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

১৩. খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন
Share

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

যেসব অঞ্চলে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা

দেশের কোথাও কোথাও বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। ...